মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই টাইগারদের প্রথম জয়। প্রথম দিন থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দাপুটে ক্রিকেটে শান মাসুদদের কোণঠাসাই করে রেখেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ঐতিহাসিক এই জয়ের নেপথ্যে অবদান রেখেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
শান্তর ‘ক্যাপ্টেনস নক’ ও মুমিনুলের অভিজ্ঞতা
ম্যাচের প্রথম ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারিয়ে যখন দল ধুঁকছিল, তখন নাজমুল হোসেন শান্ত তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং মুমিনুল হকের ৯১ রানের ইনিংসটিও দলের বড় সংগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করে। শান্তর ব্যাট থেকে আসা বড় রান কেবল স্কোরবোর্ডকে শক্তিশালী করেনি, বরং পাকিস্তানি বোলারদের আত্মবিশ্বাসেও চিড় ধরিয়েছিল।
তবে এখানেই শেষ নয়, দ্বিতীয় ইনিংসেও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। এবারও তৃতীয় উইকেটে হাল ধরেন শান্ত ও মুমিনুল। দুজনে গড়েন ১০৫ রানের জুটি। ফিফটি পেয়েছেন দুজনই। মুমিনুল করেন ৫৬ রান। আর শান্ত আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ৮৭ রানে।
নাহিদ রানার গতির তান্ডব
যেখানে রমিজ রাজারা শাহিন আফ্রিদির মতো বোলারকে মিডিয়াম পেসার বলে খোঁচা দিচ্ছিলেন, সেখানে বাংলাদেশের নাহিদ রানা তুলেছিলেন গতির ঝড়। তার ১৫০ কিমি/ঘণ্টার আশেপাশে করা ডেলিভারিগুলো পাকিস্তানি ব্যাটারদের জন্য ছিল রীতিমতো বিভীষিকা। গতির এই আধিপত্যই পাকিস্তানের টপ-অর্ডারকে দ্রুত ধসিয়ে দিতে সাহায্য করেছে।
প্রথম ইনিংসে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে করা নাহিদ বোলিং বাংলাদেশের জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে নিজের করা টানা দুই ওভারে সৌধ শাকিল ও সালমান আগার উইকেট নিলে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় টাইগারদের। যদিও শেষ উইকেট নিজে নিয়ে ফাইফারও তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার।
সঠিক সেশন ম্যানেজমেন্ট
বাংলাদেশ এবার সেশন বাই সেশন খেলার পরিকল্পনায় অনেক বেশি সফল ছিল। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশ দল যতগুলো সেশন ব্যাট করেছে, প্রত্যেক সেশনেই তারা তুলেছে ৯০’র বেশি করে রান। যা দলীয় স্কোর বড় করতে সহায়তা করেছে।
মিরাজের ফাইফার
প্রথম ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন বাংলাদেশি স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এই স্পিনারের ঘূর্ণিতেই প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে অতিক্রম করতে পারেনি পাকিস্তান। বিশেষ করে দুই হাফ-সেঞ্চুরিয়ান ইমাম-উল হক ও আব্দুল্লাহ ফজলকে আউট করাও ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য আশির্বাদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ছয়টি উইকেট নেন মিরাজ।
শান্তর অধিনায়কত্ব
পাকিস্তানকে হারানোর ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্সই যথেষ্ট ছিল না। জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাপ্টেন্সিও। মূলত ব্যাটিং-বোলিংয়ের আড়ালে বাংলাদেশের জয়ের নেপথ্যে ছিল অধিনায়কের ইনিংস ঘোষণার সেই সাহসী সিদ্ধান্তও। অধিনায়ক শান্ত সময়মতো সেই সিদ্ধান্ত না নিলে হয়তো ম্যাচের ফলাফল অমীমাংসিত থেকে যেত। কিন্তু সেই সাহসী সিদ্ধান্তেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ।