বরিশাল বিভাগে প্রায় ৫ হাজারের মতো মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে, এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১০০ জন মাত্র ভোটার হয়েছে। এই অনগ্রসর গোষ্ঠীর কবরস্থান ও জীবন মানে উন্নয়নের জন্য, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
‘বুধবার, স্থানীয় একটি হোটেলে ইউথ নেট গ্লোবাল’ এর আয়োজনে, ‘মানতা কানেক্ট -নামতা জনগোষ্ঠীর সামাজিক অন্তর্ভুক্তি -প্রারম্ভিক সভা ‘শীর্ষক এক মতবিনিময় বিনিময় সভায়, বক্তারা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন “যারা নৌকায় বসবাস করে, যাদের মাছধরা জীবিকার একমাত্র, অবলম্বন, সেইসব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই ”
তিনি বলেন “আমাদের নদীতে কি আগের মত মাছ আছে? অথচ মাছ ধরে যারা জীবিকা অর্জন করে, তাদের বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে -যে পেশায় নিয়োজিত রয়েছে তারা কি সে পেশাই থাকবে? তাদের ছেলেমেয়েরা কি লেখাপড়া করে মানুষ হবে না -আমাদের এই বিষয়ে ভাবতে হবে।
অনুষ্ঠানে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের, উপ-পরিচালক, আল মামুন তালুকদার জানান -বরিশাল জেলায়, নৌকায় বসবাসকারী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে, ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে -ইতিমধ্যে ৭০ জন, মানতা সম্প্রদায়ের মানুষকে, ভাতার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
বরিশালের সিভিল সার্জন, মনজুরে এলাহি বলেন -মানতা সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য সেবার জন্য, ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, মান্তা সম্প্রদায়ের প্রায় সকলেই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, তাদের জন্য সহায়ক নয় -তাদের জন্য আলাদা লার্নিং সেন্টার দরকার। এছাড়াও তাদের স্বাস্থ্যসেবা, এবং দুর্যোগ কালীন সময়, তারা যেন শক্ত, বাসস্থানে থাকতে পারে সেই বিষয়ে নজর দেয়া জরুরী।
অনুষ্ঠানে প্রায় সকল বক্তাই “টেকসই উন্নয়নের জন্য, নৌকায় বসবাসকারী, এই সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে, পদক্ষেপ নেয়ার জন্য, সরকার কাছে আহ্বান জানান ”
অনুষ্ঠানের মানতা সম্প্রদায়ের, জসিম সরদার জানান, দুর্যোগেই নৌকায় বসবাস করি এই মান তার সম্প্রদায়ের, ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে। আজকে, যে ঝড়ো বৃষ্টি হয়েছে,তাতে তিনটি নৌকা ডুবে গেছে।
অনুষ্ঠানে, মানতা উন্নয়ন কমিটির, রাবেয়া আক্তার জানান, ছেলেমেয়েদের রেখে,আমাদের দূরে মাছ ধরতে যেতে হয়, এজন্য তাদেরকে আমরা স্কুলেও দিয়ে যেতে পারি না। একদম ছোট ছেলেমেয়েরা যাতে, নদীতে ডুবে না যায়, সেজন্য তাদেরকে বেঁধে রাখা হয় -এইরকম পরিবেশেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময়, ঝড় ঝঞ্ঝার সময় অনেকে নৌকা থেকে পরে মারা যায়।
মানতা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি জসিম সরদার জানান, আমাদের কবরস্থান দেয়ার জন্য, সাড়ে তিন হাত মাটি নাই। আমরা বেশ কয়েকবার আবেদন করলেও, এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
যুব উন্নয়নের উপপরিচালক মোঃ শাহাবুদ্দিন সরকার জানান, শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ -কারণ যে কোন প্রশিক্ষণ নিতেই শিক্ষা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রায় সকল বক্তাই বলেন, বরিশাল সদর উপজেলায়, অন্তত ১ হাজার মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে, তাদের মধ্যে, ন্যাশনাল আর ন্যাশনাল আইডি কার্ড হয়েছে মাত্র, ১০০ জনের। ন্যাশনাল আইডি কার্ড না থাকায়, তারা জেলে কার্ড সহ, অন্যান্য সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানতা সম্প্রদায়কে এই বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষার জন্য, বরিশাল জেলার মানতা সম্প্রদায়ের জীবন মানে ও সংখ্যা নিয়ে, জরিপ হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও, জরুরি হয়ে পড়েছে -কেননা নদীতে এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, এসব কারণে, যে সময় নদীতে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকে, সে সময়ে মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষরা, বাধ্য হয়ে এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরে থাকে -এর ফলে অনেক জেল জরিমানা ঘটে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য, বিকল্প কর্মসংস্থান জরুরি হয়ে পড়েছে। অনুষ্ঠানের বক্তারা, মান্তা সম্প্রদায়ের, নিজস্ব স্বতন্ত্র বজায় রেখে, তাদের জন্য, জীবন মানও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।
মতবিনিময় সভায় ইউথনেট গ্লোবাল এর সমন্বয়কারী, সোহানুর রহমান, প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন, বেসরকারি সংস্থা কাজ করলেও, মান্তা সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নের জন্য, একত্রে সমন্বয় ভিত্তিক কাজ করা প্রয়োজন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল সদর উপজেলার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফরিদা সুলতানা, এশিয়া ফাউন্ডেশনের, প্রজেক্ট ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, জেলা সমাজসেবা অফিসের, সরকারি পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ, উন্নয়নকর্মী সিরাজুল ইসলাম, হাসিনা বেগম নীলা, সাংবাদিক মো:জসীমউদ্দীন ও সুশান্ত ঘোষ।