বরিশাল নগরীতে সাতটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যার ঘটনায়,৪ জনকে আসামি করে, মামলা করেছে বন বিভাগ। রবিবার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিডিয়ায় শিয়াল হত্যার ঘটনা শুনে ,বরিশাল সদর রেঞ্জ অফিসার, আরিফুর রহমানকে, ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেই, তিনি গত ৮ জুলাই, সাত শিয়াল হত্যার সত্যতা খুঁজে পেয়ে রিপোর্ট জমা দেন -পরে আমরা
Wildlife (Conservation and Security) Act, 2012-এর অধীনে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেই। রবিবার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়েরের জন্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামাল হোসেনের কাছে এজাহার দেয়া হয়েছে।
বিভাগীয় বন বিভাগের, কোর্ট কানেক্টিং অফিসার, মাসুম মোস্তফা কাওসার জানান,বিভাগীয় বন অফিসের, বরিশাল সদর রেঞ্জ অফিসার আরিফুর রহমান বাদী হয়ে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেছেন ।
মামলার সূত্রে জানা যায় বরিশাল নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের, নুরুল ইসলাম, ৩৩,মোহাম্মদ হারিস ৩৬, মামা কামাল কামাল খলিফা ৩২, মোহাম্মদ জামাল খলিফা ৩২, এই মামলার আসামি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা, এসব বন্যপ্রাণীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।
সদর রেঞ্জ অফিসার আরিফুর রহমান জানান, শিয়াল হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
‘শিয়াল স্থানীয় এলাকাবাসী কর্তৃক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে -তবে হত্যা করা মাংস তারা খেয়েছে কিনা এই বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
সম্প্রতি নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় এসব শিয়াল পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে এলাকার একদল ব্যক্তি। পরে মেরে ফেলা এসব শিয়ালের মাংস স্থানীয়দের নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে -এরকম একটি ভিডিও গত সাত দিন আগে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনাটি ২ জুলাই নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার। জানাজানি হয় ৮ জুলাই। এরপর এ নিয়ে আলোচনা হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত বন্য প্রাণী হিসেবে শিয়াল হত্যা করা বা এর মাংস খাওয়া ও বিক্রি করা দণ্ডনীয় বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচটি মৃত শিয়াল মাটিতে পড়ে রয়েছে। পাশেই আরও দুটি শিয়ালের চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। এ সময় লাঠি হাতে থাকা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এলাকায় হাঁস-মুরগি ও ছাগল খাওয়ায় শিয়ালগুলো মারা হয়েছে। কারও প্রয়োজন হলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় এসে শিয়ালের মাংস নিয়ে যেতে পারেন।’
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান,দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালগুলো হাঁস মুরগি খাচ্ছিল -এসব কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে, একদল লোক, সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে শিয়ালগুলোকে মৃত প্রায় করে -পরে তাদেরকে জবাই করে, মাংস কুচি কুচি করে,এলাকায় বিতরণ করা হয় -তবে এই মাংস লোকজন খেয়েছে কিনা আমরা নিশ্চিত নই।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন