বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটের সব পনটুন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে লঞ্চযাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে ঘাটে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ পানি পরিমাপসংক্রান্ত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলামের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার, ভোলার তেতুলিয়া নদীর খেয়াঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি ৪৭ সেন্টিমিটার এবং তজুমদ্দিন পয়েন্টে ১ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ঝালকাঠি পয়েন্টে বিষখালী নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার, বরগুনার পাথরঘাটা পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং বরগুনা পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পিরোজপুরে বলেশ্বর নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার এবং বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে এবারই প্রথম একসঙ্গে এতগুলো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।”
এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটের সব পনটুন ডুবে গেছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রীকে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
সত্তরোর্ধ্ব যাত্রী আমেনা বেগম বলেন, “পনটুন ডুবে যাওয়ায় ওঠানামা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”
ঢাকা থেকে যুবরাজ-৭ লঞ্চ এসেছেন সাজাহান মিয়া।তিনি জানান, লঞ্চঘাটে পনটুন ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা এই ঘাট, সরিয়ে উচু জায়গায় নেয়ার দাবি জানাই ‘।
ভোলা নদীবন্দর কর্মকর্তা নির্মল কুমার রায় জানান, বিকেলের শেষ জোয়ারে পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে উঠে যাওয়ায় সব পনটুন তলিয়ে যায়। এতে প্রতিদিন চলাচলকারী অন্তত ৩০টি লঞ্চের প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবল জোয়ারের সময় পনটুন ডুবে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে ঘাট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”