বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বরিশালের শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব। উৎসবে বরিশাল মহানগরীর ৩৫টি বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৭৭৬ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), বরিশাল জনাব মোঃ ওবায়দুল্লাহ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী জনাব এম এ মুহিত, জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), বরিশাল জনাব মোহাম্মদ আঃ জব্বার, সুপারিনটেনডেন্ট, বরিশাল পিটিআই, জনাব শিরীন শবনম, প্রধান শিক্ষক, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জনাব মাহবুবা হোসেন, গ্রামীণফোন লিমিটেডের বরিশাল অঞ্চলের রিজিওনাল হেড জনাব মোঃ শাহিনুর রহমান, গ্রামীণফোনের ট্রেটেজিক প্রোগ্রাম লিড, কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স জনাব জনাব মো. সোহেল রানা এবং প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক জনাব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, “ভ্রমণ শুধু স্থান বদল নয়; বই পড়েও নতুন দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।” তিনি বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পাঠকের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করে এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জনাব মোঃ ওবায়দুল্লাহ বলেন, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার গুরুত্ব রয়েছে ।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চরিত্র গঠন, মূল্যবোধের বিকাশ এবং জ্ঞান-প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ হতে নিয়মিত ভালো বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী এম.এ মুহিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই একটি ‘এভারেস্ট’—অর্থাৎ একটি স্বপ্ন—রয়েছে। দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন জয় করা সম্ভব।
গ্রামীণফোনের বরিশাল অঞ্চলের হেড অব সার্কেল মো. শহিনুর রহমান বলেন, আলোকিত প্রজন্ম গড়তে গ্রামীণফোন দুই দশক ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এ উদ্যোগের সহযাত্রী। তিনি বইপড়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন থাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক জনাব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বছরব্যাপী বইপড়া কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই উৎসবে ৩৫টি স্কুলের মোট ২ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২০৩৭ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৯০ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৪৯ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।