বরিশালের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন দুর্গাসাগর দীঘি এবং এর আশপাশের কম্পাউন্ড ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন নাগরিক, সংস্কৃতিকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দুর্গাসাগর কোনো বাণিজ্যিক অবকাঠামো নয়; এটি বরিশালের ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারি উদ্যোগে এর সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সদস্যসচিব তার ফেসবুক স্টাটাসে জানান দুর্গাসাগর কোন বাণিজ্যিক অবকাঠামো নয়! বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার দুর্গাসাগর দীঘি ও কম্পাউন্ড ইজারা দেয়ার অপসিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানাই! দুর্গাসাগর দীঘি এবং পাখিদের অভয়ারণ্য সরকারি উদ্যোগেই সংরক্ষণ করতে হবে।
দুর্গাসাগর দীঘি শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি অসংখ্য দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে নানা প্রজাতির পাখির আগমন ঘটে, যা প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি সবুজ পরিবেশ, বিশাল জলরাশি এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি বরিশালের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক ইজারা কার্যকর হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, পাখিদের আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং দুর্গাসাগরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্গাসাগর দীঘি ও এর পাখিদের অভয়ারণ্যকে বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারি তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হোক। একই সঙ্গে পর্যটন ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এমনভাবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়, যাতে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি না হয়।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গাসাগর বরিশালের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।